অভ্যাসের দাস
বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
সামনে সবুজ লন, রঙিন ছাতা,
মহলের চলা পথে কার্পেট পাতা।
প্যাঁচানো সিঁড়ি, গোলাপের টব,
ঠিক তার পিছনে ঝুপড়িতে
শীর্ণ ভুখা মানুষের কলরব।
একজন অচেনা অতিথি
শীর্ণ ভুখাদের মাঝে খোলামেলা সুরে।
– এই ধল্মু, এই বাগুন মুণ্ডা,
তোরা নাকি কুষ্ঠ, ক্যান্সার,
সমাজের আবর্জনা!
কেন রে নষ্ট করিস মহলের গরিমা ?
তোদের বুভুক্ষু সুরে
জামাইয়ের ঘুম ভাঙে।
অভিজাত শ্বশুরের মাথা ধরে,
মান পড়ে।
আগন্তুক আরও বলে
– আজ থেকে তোরা প্রায়শ্চিত্ত কর।
আজ থেকে তোরা মহলেরই খাবি,
মহলেই নিদ্রা যাবি,
কম্বুকণ্ঠে বলবি,
‘‘অধিকার আছে আমারও এ মহলে
তোমার আমার সবার,
এ মহল নয় তোমাদের একার।’’
চলে গেল আগন্তুক।
যা বলে গেল কেউ বুঝলো, কেউ হাসলো
কেউ তুলে নিল ‘উলগুলানের’ অস্ত্র।
দুর্ভোগের দুর্বার প্রতিধ্বনি –
‘‘অধিকার তোমার আমার সবার
এ মহল নয় তোমাদের একার’’
ঠিক তখনই মহলের জমিদারের ঘোষণা,
ঝেড়ে ফেল তোদের সুপ্ত বাসনা।
তোরা তো কুশলেই আছিস আস্তা-কুড়ে
তোরা তো উচ্ছিষ্টই খাস,
পরম্পরাগত শীর্ণতা, এই নগ্নতা তো তোদের গল-মাল্য,
এটুকুও বুঝিস না মানুষ ‘অভ্যাসের দাস’।
ঠিক তখনই কানে কানে কে যেন বলে উঠলো
‘এ মহলের নাম ভারতবর্ষ!
আর আমার ঘুমও ভেঙে গেল!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন