শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


কবিতার কষাঘাত / বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
(পুরানো ডাইরি থেকে-১৯৯৩)

তোমার দেওয়া ফেনিল যন্ত্রণায়
কেটে যায় বেলা সকাল দুপুর রাত,
ছন্দ আমার সম্ভোগ ক’রে হৃদয়ে
ফোটায় নিমেষে অঢেল উল্কাপাত।
গুছিয়ে দেওয়া অতীতের কাঁদা-হাসা
সঞ্চয় করে মৌলিক মূলধন,
কাগজ কলমে জড়ো করে ডাল পালা
গড়েছি আমার স্বপ্নের তপোবন।
তোমার দেওয়া চোখের পূর্বাভাস
বুঝিনি আমি দিয়েছে সাগর পারি
পেয়েছি ঝঞ্ঝা, দু-কুল ছাপানো ঢেউ
সম্বল শুধু কাব্যের তরবারি।
তোমার জ্বালানো আগুনের মিঠে তাপে
ঝলসানো মন বিরহে সন্নিপাত
গোধূলি লগনে হৃদয়ের শ্বাস রোধে
গর্বিত হয় কবিতার কষাঘাত।

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


বদলায়নি / বাণী প্রসাদ মুখোপাধ্যায়

ভাবিনি তোমাকে এইভাবে ফিরে পাব
যেমন দেখেছি দশটা বছর আগে,
একই রয়েছে তোমার শিকারি চোখ
মায়া জালে ঘেরা, উত্তাপ ঘোর মাঘে।
পুরানো সে দুল পরে আছ আজো কানে
রক্তাভ ঠোঁটে নেশা-ধরা সেই দীপ্তি,
এককাল পরে তবু শরীরের ঢেউ
ক্লান্তি ঝেড়ে হৃদয়ে বোলায় তৃপ্তি।
চুলের বন্যা একই ভাবে উথলায়
ভেবেছি কপালে সিঁদুরের রেখা থাকবে,
কোর্ট-টাই পরা কোনও সে ভদ্রলোক
হাতে ছেলে ধরে চেনা নাম ধরে ডাকবে!


বদলেছি আমি বদলেছে কত দৃশ্য
আজ মনে পড়ে সেই সেদিনের ‘কবি’
অনুনয় করে আদায় সে মূহুর্ত
একদিন ভুলে খোওয়া গেল সেই ‘ছবি’।
হঠাৎ পুরানো খাতার ফসিলে রাখা
পুরানো দিনের নির্জীব হাতে পাই,
জানি জানি তুমি বদলেছ দিনে দিনে
ছবি হাতে নিয়ে অতীতের পানে চাই।

বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


অভ্যাসের দাস 
বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

সামনে সবুজ লন, রঙিন ছাতা,
মহলের চলা পথে কার্পেট পাতা।
প্যাঁচানো সিঁড়ি, গোলাপের টব,
ঠিক তার পিছনে ঝুপড়িতে
শীর্ণ ভুখা মানুষের কলরব।

একজন অচেনা অতিথি
শীর্ণ ভুখাদের মাঝে খোলামেলা সুরে।
– এই ধল্‌মু, এই বাগুন মুণ্ডা,
তোরা নাকি কুষ্ঠ, ক্যান্সার,
      সমাজের আবর্জনা!
কেন রে নষ্ট করিস মহলের গরিমা ?
তোদের বুভুক্ষু সুরে
      জামাইয়ের ঘুম ভাঙে।
অভিজাত শ্বশুরের মাথা ধরে,
      মান পড়ে।
আগন্তুক আরও বলে
– আজ থেকে তোরা প্রায়শ্চিত্ত কর।
        আজ থেকে তোরা মহলেরই খাবি,
    মহলেই নিদ্রা যাবি,
                কম্বুকণ্ঠে বলবি,
‘‘অধিকার আছে আমারও এ মহলে
     তোমার আমার সবার,
         এ মহল নয় তোমাদের একার।’’

চলে গেল আগন্তুক।
যা বলে গেল কেউ বুঝলো, কেউ হাসলো
কেউ তুলে নিল ‘উলগুলানের’ অস্ত্র।

দুর্ভোগের দুর্বার প্রতিধ্বনি –
‘‘অধিকার তোমার আমার সবার
এ মহল নয় তোমাদের একার’’

ঠিক তখনই মহলের জমিদারের ঘোষণা,
ঝেড়ে ফেল তোদের সুপ্ত বাসনা।
তোরা তো কুশলেই আছিস আস্তা-কুড়ে
তোরা তো উচ্ছিষ্টই খাস,
পরম্পরাগত শীর্ণতা, এই নগ্নতা তো তোদের গল-মাল্য,
এটুকুও বুঝিস না মানুষ ‘অভ্যাসের দাস’।

ঠিক তখনই কানে কানে কে যেন বলে উঠলো
‘এ মহলের নাম ভারতবর্ষ!
আর আমার ঘুমও ভেঙে গেল!

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১২


উকিল কথা / বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

দুই বন্ধুতে যুক্তি করিয়া গেনু যবে পুরুলিয়া,
উকিল-বাবুর পায়ে পড়েছিনু দিতে হবে বিয়ে বলিয়া।
কত অনুরোধ সাধা-সাধি করি তবুও উপায় নাই,
আমি আর-তপা ফ্যাল-ফ্যাল চোখে উকিলের পানে চাই।
র-চায়ে দুবার চুমুক মারিয়া সিগারেটে মেরে টান,
কহিলেন তিনি কাজ হতে পারে বলরামপুরে যান।
আমিওতো শালা নাছোড়বান্দা অত সহজে কি হারবো ?
নাই বা উকিল হলাম তবু বিয়ে দিয়ে তবে ছাড়বো।
কহিলেন তিনি কাজ হতে পারে তবে বেশী কিছু দিলে,
বয়েস বাড়িয়ে ফ্রক ছেড়ে শাড়ি মাথায় সিঁ‍দুর নিলে।
তপা এতক্ষণ ছিলো চুপচাপ আশা দেখে মুখ খোলে,
— টাকা যা লাগবে দেওয়াযাবে ক্ষণ বিয়েটা পোক্ত হলে।
কহিলো উকিল দেঁ‍তো হাসি হেসে দেখি কি করতে পারি
তিন হাজার দিলে একদিনে পাকা — একেবারে তাড়াতাড়ি
কথার মোচড়ে, টাকার গন্ধে যেই না উকিল রাজি,
নিশ্চিত মনে কল্পনা করি জিতেগেনু বুঝি বাজি।
অদ্ধেক টাকা বায়না হল কালকেই হবে বিয়ে,
বাকি কাজ কটা সেরে ফেলা হবে জামশেদপুরে গিয়ে।
পরদিন ভোরে পাত্র-পাত্রী নিয়ে পুরুলিয়া যাই
সূর্য ফেরে অস্তাচলে, হায়! উকিলের দেখা নাই।

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১২




আমার দুটি কবিতা (পুরানো ডাইরি থেকে)






গড়তে পারো / বাণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

আমার দুই পকেটে নরম নরম কাগজ আছে
সেই কাগজে মুঠো মুঠো আগুন রাখা
ইচ্ছে হলে তুমিও তাতে জ্বলতে পারো
আঙুল দিয়েই ওদের কবর খুঁড়তে পারো
যে সিঁড়িতে থাকতো হিংস্র কুকুর বাঁধা
সেই সিঁড়িতে পানের পিচও ফেলতে পারো
সাত পুরুষের মুখের সোনার চামচ কেড়ে
চাষি বৌ-এর কানের দুলও গড়তে পারো
লুকিয়ে রাখা ইট খানাকে টুকরো করে
নিরপেক্ষ নরম বালিশ গড়তে পারো ।